পুলিশের হেফাজতে যুবকের মৃত্যু দেশের জন্য অশুভ সংকেত

লালমনিরহাট-৩ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, পুলিশের হেফাজতে রবিউল ইসলাম খানের মৃত্যুর অভিযোগ–সংক্রান্ত একটি ঘটনা লালমনিরহাটে ঘটেছে। একজন যুবকের এভাবে অকালে প্রাণ হারানো শুধু তাঁর পরিবার বা এলাকার জন্য নয়, বরং সারা দেশের জন্য অশুভ সংকেত। পুলিশের হেফাজতে মানুষের প্রাণ হারানোর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

আজ শনিবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাজীর চওড়া গ্রামে পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠা রবিউল ইসলাম খানের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহিদ হাসান, জাপা চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আবু তৈয়বসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জিএম কাদের বলেন, ‘এ ঘটনায় লালমনিরহাটে যারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের ভূমিকা আমাকে মর্মাহত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, জনগণের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা দেওয়া। কোনো নাগরিক যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে কোনো অভিযোগ করেন, তাহলে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ যেমন ফেরেশতা নন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্য ভুলত্রুটি বা দোষের ঊর্ধ্বে নন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গত কয়েক দিনের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যে অধিকার, সেটা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঠিক ভূমিকা রাখা দরকার। আমাদের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের কোনো ভুলত্রুটি বা দোষ যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের শাস্তি দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানাচ্ছি। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় যাতে গণ–আসামি না করা হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

দুপুরে সড়কপথে রংপুর থেকে সরাসরি লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাজীর চওড়া গ্রামে যান জিএম কাদের। তিনি পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠা রবিউলের স্ত্রী মনিরা আখতার, নয় মাস বয়সী কন্যা রাইসা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। রবিউলের বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। জিএম কাদের বলেন, পরিবারের উপার্জনকারী রবিউলের মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী–শিশুসন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। রবিউলের স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চাকরি বা আয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

পরে তিনি রবিউলের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় রবিউলের পরিবারের সদস্যরা সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.